“আমার পিছনে যে ব্যক্তি ‘লাল সালাম’ বলে নাচছিলেন তাঁকে আমি চিনিনা…এই আচরণ খুবই নিন্দনীয়!” “আমার প্রিয় বন্ধুদের ‘লাল সালাম’ দিয়ে বিদায় জানাই!” রাহুল অরুণোদয়ের শেষকৃত্যে রাজনীতি টেনে, মীরের বিতর্কিত ‘সার্কাস’ পোস্টের পরোক্ষ কটাক্ষে সরাসরি প্রতিক্রিয়া ঊষসী চক্রবর্তীর!

প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunoday Banerjee) শেষ যাত্রা নিঃসন্দেহে টলিউড ও রাজনৈতিক মহলে এক বড়ো ধাক্কা হিসেবে অনুভূত হলো। বিজয়গড় চত্বর জুড়ে মানুষ ভিড় জমিয়েছিল, কেউ কাঁদছিলেন, কেউ বা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছিলেন। কিন্তু সেই আবহের মধ্যেই ‘রাজনৈতিক দলের স্লোগান’, ‘কলাকুশলীদের এক্সপার্ট মন্তব্য’ এবং ‘ধাক্কাধাক্কি’ যেন শেষকৃত্যের শান্তিকে বিঘ্নিত করেছে, এমনটাই মত ছিল ‘মীর আফসার আলি’র (Mir Afsar Ali)। সামাজিক মাধ্যমের পাতায় এই বিশৃঙ্খলার ছবি দেখে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।

সেই পোস্টে তিনি লিখেছেন, “শিল্পীর বাড়ীর সামনে মাঝারি মাপের সার্কাস। যেটা দেখার পরই ঘেন্নায় আর বেরোলাম না ‘শেষ শ্রদ্ধা’ জানাতে।” নেটপাড়ায় মীরের পোস্ট নিয়ে সমর্থন এবং কটাক্ষের ঢেউ উভয়ই উঠেছে। একপক্ষ তাঁর সাহসী মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছে, আবার অনেকে মনে করছেন পোস্টটি রাজনৈতিক আঙ্গিক নিয়ে করা হয়েছে। মীর প্রশ্ন তুলেছেন, মরদেহ ঘিরে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি আর তাদের আচরণের পরিচিত ছবি কতোটা গ্রহণযোগ্য। তিনি লিখেছেন, “প্রথমত, গুণী ব‍্যক্তির মরদেহ ঘিরে রাজনৈতিক মাথা।

আর তাঁদেরই পায়ে বিক্রি হয়ে যাওয়া কিছু মানুষের হ‍্যাংলামির সেই চেনা ছবি।” এতে স্পষ্ট যে তিনি শুধুই শেষকৃত্যের ভিড় নয়, সেই ভিড়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়েও হতাশ ছিলেন। বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী, অভিনেত্রী ‘ঊষসী চক্রবর্তী’ (Usashi Chakraborty) এদিন এই বিতর্কে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “প্রথমত আমার পিছনে যে ব্যক্তি লাল সালাম বলতে বলতে বলতে নাচছিলেন তাঁকে আমি চিনিনা। তার এই আচরণ খুবই নিন্দনীয়। তার এই আচরণ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

ঊষসী স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণে হতাশ ও আহত বোধ করছেন, তবে তাঁর প্রিয় বন্ধু ও সাথীদের সঙ্গে সমবেদনার মধ্য দিয়ে রাহুলের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছেন। ঊষসীর মন্তব্যে আরও একটা বিষয় স্পষ্ট যে, ব্যক্তিগত ক্ষোভ থাকলেও শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিরাপত্তা এবং মর্যাদা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, “রাহুলের এই অকাল মৃ’ত্যু আমাদের অনেকের মনেই পাথর হয়ে বসে আছে! আমার মনে হয় নিরপেক্ষভাবে সত্য প্রকাশ এবং কাজের ক্ষেত্রে আর্টিস্ট এবং টেকনিসিয়ানদের সুরক্ষার দাবি ওঠানোটা এখন সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক।”

আরও পড়ুনঃ রাহুলের রহস্যমৃ’ত্যু ঘিরে উত্তাল টলিউড, শুটিং দুর্ঘ’টনা না অবহেলা, জবাব চেয়ে প্রযোজনা সংস্থাকে চিঠিতে নেই কারোর সই! প্রশ্নের মুখে আর্টিস্ট ফোরাম, বিচার চেয়ে এবার পথে নামার ডাক শিল্পীদের! কবে এবং কোথায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই কর্মসূচি?

তিনি এটাও বুঝিয়েছেন যে তাঁর লক্ষ্য বিতর্ক নয়, বরং শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে গুরুত্ব দেওয়া। এই শেষযাত্রা শুধু একটি ব্যক্তির বিদায় নয়, বরং সমগ্র সমাজের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিকগুলোর প্রতিফলন। রাহুলের মর্যাদাপূর্ণ বিদায়, বামপন্থা নিয়ে তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, এবং তার প্রতি মানুষদের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া, সবই একত্রিত হয়ে একটি মানবিক, আবেগপ্রবণ প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। মীর এবং ঊষসীর মতামত, সমালোচনা এবং সমর্থন যেন তুলে ধরেছে একজন শিল্পীর মৃত্যুও কেবল শোক নয়, একই সঙ্গে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংলাপের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায়।

You cannot copy content of this page